Difference between revisions 20110 and 20112 on bnwikisource[[প্রধান পাতা:বাংলা|<--প্রধান পাতা]] এটি বাংলা ভাষায় রচিত পাবলিক ডোমেইন সাহিত্যকর্মসহ সকল লেখার একটি তালিকা রয়েছে, যার লেখকের মৃত্যুর ৬০ বছর অতিক্রম করেছে। == সাহিত্য == === চর্যাপদ === (contracted; show full)=== জীবনানন্দ দাশ === * ঝরা পালক (১৯২৮) * ধুসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬) * বনলতা সেন (১৯৪২) * মহাপৃথিবী (১৯৪৪) কাজী নজরুল ইসলাম এর কবিতাঃ '''বিদায়-বেলায়''' তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না, জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না। ঐ কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না, শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।। হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা, আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না। ঐ ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ দেখি আর শুধু হেসে যাও,আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না। চলার তোমার বাকী পথটুকু- পথিক! ওগো সুদূর পথের পথিক- হায়, অমন ক’রে ও অকর”ণ গীতে আঁখির সলিলে ছেয়ো না, ওগো আঁখির সলিলে ছেয়ো না।। দূরের পথিক! তুমি ভাব বুঝি তব ব্যথা কেউ বোঝে না, তোমার ব্যথার তুমিই দরদী একাকী, পথে ফেরে যারা পথ-হারা, কোন গৃহবাসী তারে খোঁজে না, বুকে ক্ষত হ’য়ে জাগে আজো সেই ব্যথা-লেখা কি? দূর বাউলের গানে ব্যথা হানে বুঝি শুধু ধূ-ধূ মাঠে পথিকে? এ যে মিছে অভিমান পরবাসী! দেখে ঘর-বাসীদের ক্ষতিকে! তবে জান কি তোমার বিদায়- কথায় কত বুক-ভাঙা গোপন ব্যথায় আজ কতগুলি প্রাণ কাঁদিছে কোথায়- পথিক! ওগো অভিমানী দূর পথিক! কেহ ভালোবাসিল না ভেবে যেন আজো মিছে ব্যথা পেয়ে যেয়ো না, ওগো যাবে যাও, তুমি বুকে ব্যথা নিয়ে যেয়ো না।। '''আমার কৈফিয়ৎ''' বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’, কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি! কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে! যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’ দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী! কবি-বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে! বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে অকেজো পলিটিক্সের পাশ ঠেলে। পড়ে না ক’ বই, ব’য়ে গেছে ওটা। কেহ বলে, বৌ-এ গিলিয়াছে গোটা। কেহ বলে, মাটি হ’ল হয়ে মোটা জেলে ব’সে শুধু তাস খেলে! কেহ বলে, তুই জেলে ছিলি ভালো ফের যেন তুই যাস জেলে! গুরু ক’ন, তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা! প্রতি শনিবারী চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন, ‘তুমি হাঁড়িচাঁচা!’ আমি বলি, ‘প্রিয়ে, হাটে ভাঙি হাঁড়ি!’ অমনি বন্ধ চিঠি তাড়াতাড়ি। সব ছেড়ে দিয়ে করিলাম বিয়ে, হিন্দুরা ক’ন, আড়ি চাচা!’ যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা! মৌ-লোভী যত মৌলবী আর ‘ মোল্-লা’রা ক’ন হাত নেড়ে’, ‘দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে! ফতোয়া দিলাম- কাফের কাজী ও, যদিও শহীদ হইতে রাজী ও! ‘আমপারা’-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে! হিন্দুরা ভাবে,‘ পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা’ত-নেড়ে!’ আনকোরা যত নন্ভায়োলেন্ট নন্-কো’র দলও নন্ খুশী। ‘ভায়োরেন্সের ভায়োলিন্’ নাকি আমি, বিপ্লবী-মন তুষি! ‘এটা অহিংস’, বিপ্লবী ভাবে, ‘নয় চর্কার গান কেন গা’বে?’ গোঁড়া-রাম ভাবে নাস্তিক আমি, পাতি-রাম ভাবে কন্ফুসি! স্বরাজীরা ভাবে নারাজী, নারাজীরা ভাবে তাহাদের আঙ্কুশি! নর ভাবে, আমি বড় নারী-ঘেঁষা! নারী ভাবে, নারী-বিদ্বেষী! ‘বিলেত ফেরনি?’ প্রবাসী-বন্ধু ক’ন, ‘ এই তব বিদ্যে, ছি!’ ভক্তরা বলে, ‘নবযুগ-রবি!’- যুগের না হই, হজুগের কবি বটি ত রে দাদা, আমি মনে ভাবি, আর ক’ষে কষি হৃদ্-পেশী, দু’কানে চশ্মা আঁটিয়া ঘুমানু, দিব্যি হ’তেছে নিদ্ বেশী! কি যে লিখি ছাই মাথা ও মুণ্ডু আমিই কি বুঝি তার কিছু? হাত উঁচু আর হ’ল না ত ভাই, তাই লিখি ক’রে ঘাড় নীচু! বন্ধু! তোমরা দিলে না ক’ দাম, রাজ-সরকার রেখেছেন মান! যাহা কিছু লিখি অমূল্য ব’লে অ-মূল্যে নেন! আর কিছু শুনেছ কি, হুঁ হুঁ, ফিরিছে রাজার প্রহরী সদাই কার পিছু? বন্ধু! তুমি ত দেখেছ আমায় আমার মনের মন্দিরে, হাড় কালি হ’ল শাসাতে নারিনু তবু পোড়া মন-বন্দীরে! যতবার বাঁধি ছেঁড়ে সে শিকল, মেরে মেরে তা’রে করিনু বিকল, তবু যদি কথা শোনে সে পাগল! মানিল না ররি-গান্ধীরে। হঠাৎ জাগিয়া বাঘ খুঁজে ফেরে নিশার আঁধারে বন চিরে’! আমি বলি, ওরে কথা শোন্ ক্ষ্যাপা, দিব্যি আছিস্ খোশ্-হালে! প্রায় ‘হাফ’-নেতা হ’য়ে উঠেছিস্, এবার এ দাঁও ফস্কালে ‘ফুল’-নেতা আর হবিনে যে হায়! বক্তৃতা দিয়া কাঁদিতে সভায় গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এই বেলা ঢোকা! সেই তালে নিস্ তোর ফুটো ঘরটাও ছেয়ে, নয় পস্তাবি শেষকালে। বোঝে না ক’ যে সে চারণের বেশে ফেরে দেশে দেশে গান গেয়ে, গান শুন সবে ভাবে, ভাবনা কি! দিন যাবে এবে পান খেয়ে! রবে না ক’ ম্যালেরিয়া মহামারী, স্বরাজ আসিছে চ’ড়ে জুড়ি-গাড়ী, চাঁদা চাই, তারা ক্ষুধার অন্ন এনে দেয়, কাঁদে ছেলে-মেয়ে। মাতা কয়, ওরে চুপ্ হতভাগা, স্বরাজ আসে যে, দেখ্ চেয়ে! ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ, চায় দুটো ভাত, একটু নুন, বেলা ব’য়ে যায়, খায়নি ক’ বাছা, কচি পেটে তার জ্বলে আগুন। কেঁদে ছুটে আসি পাগলের প্রায়, স্বরাজের নেশা কোথা ছুটে যায়! কেঁদে বলি, ওগো ভগবান তুমি আজিও আছে কি? কালি ও চুন কেন ওঠে না ক’ তাহাদের গালে, যারা খায় এই শিশুর খুন? আমরা ত জানি, স্বরাজ আনিতে পোড়া বার্তাকু এনেছি খাস! কত শত কোটি ক্ষুধিত শিশুর ক্ষুধা নিঙাড়িয়া কাড়িয়া গ্রাস এল কোটি টাকা, এল না স্বরাজ! টাকা দিতে নারে ভুখারি সমাজ। মা’র বুক হ’তে ছেলে কেড়ে খায়, মোরা বলি, বাঘ, খাও হে ঘাস! হেরিনু, জননী মাগিছে ভিক্ষা ঢেকে রেখে ঘরে ছেলের লাশ! বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে! দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে। রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা, তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা, বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে! অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে! পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে, মাথায় উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে। প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস, যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ! '''কুরবানী''' (কুরবানীর ঈদ এলেই এক শ্রেণীর নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেসী গরু জবাই বন্ধের পক্ষে নানারকম যুক্তি তুলে ধরে। কবি নজরুল বেঁচে থাকতে এক কাঠ মোল্লাও কোরবানীর নামে "পশু-হত্যা" বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। তার ঐ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কবি একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারি কবিতা লেখেন। কবিতাটি এখানে দেয়া হলো) ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! দুর্বল! ভীরু ! চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুব্ধ মন ! ধ্বনি উঠে রণি' দূর বাণীর, - আজিকার এ খুন কোরবানীর ! দুম্বা-শির রুম্-বাসীর শহীদের শির সেরা আজি !- রহমান কি রুদ্র নন ? ব্যাস ! চুপ খামোশ রোদন ! আজ শোর ওঠে জোর "খুন দে, জান দে , শির দে বৎস" শোন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! খন্জর মারো গদ্র্দানেই, পন্জরে আজি দরদ নেই, মর্দানী'ই পর্দা নেই, ডরতা নেই আজ খুন্-খারাবীতে রক্ত-লুব্ধ-মন ! খুনে খেলবো খুন-মাতন ! দুনো উনমাদনাতে সত্য মুক্তি আনতে যুঝবো রণ । ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! চ'ড়েছে খুন আজ খুনিয়ারার মুসলিমে সারা দুনিয়াটার ! 'জুলফেকার' খুলবে তার দু'ধারী ধার শেরে-খোদার , রক্তে-পূত-বদন ! খুনে আজকে রুধবো মন ওরে শক্তি-হস্তে মুক্তি, শক্তি রক্তে সুপ্ত শোন্ । ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! এ তো নহে লহু তরবারের ঘাতক জালিম জোরবারের কোরবানের জোরজানের খুন এ যে, এতে গোদ্র্দ ঢের রে, এ ত্যাগে 'বুদ্ধ' মন ! এতে মা রাখে পুত্র পণ ! তাই জননী হাজেরা বেটারে পরা'লো বলির পূত বসন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! এই দিনই 'মিনা'-ময়দানে পুত্র-স্নেহের গর্দানে ছুড়ি হেনে 'খুন ক্ষরিয়ে নে' রেখেছে আব্বা ইবরাহীম সে আপনা রুদ্র পণ ! ছি ছি ! কেঁপোনা ক্ষুদ্র মন ! আজ জল্লাদ নয় , প্রহ্লাদ-সম মোল্লা খুন-বদন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! দ্যাখ্ কেঁপেছে 'আরশ' আসমানে মন-খুনী কি রে রাশ মানে ? ত্রাস প্রাণে ? তবে রাস্তা নে ! প্রলয় বিষাণ 'কিয়ামতে' তবে বাজবে কোন্ বোধন ? সে কি সৃষ্টি-সংশোধন ? ওরে তাথিয়া তাথিয়া নাচে ভৈরব বাজে ডম্বরু শোন্ !- ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! মুসলিম-রণ-ডঙ্কা সে, খুন দেখে করে শঙ্কা কে ? টঙ্কারে অসি ঝঙ্কারে, ওরে হুঙ্কারে , ভাঙি গড়া ভীম কারা, ল'ড়বো রণ-মরণ ! ঢালে বাজবে ঝন্-ঝনন্ ! ওরে সত্য মুক্তি স্বাধীনতা দেবে এই সে খুন-মোচন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! জোর চাই, আর যাচনা নয়, কোরবানী-দিন আজ না ওই ? কাজ না আজিকে জান্ মাল দিয়ে মুক্তির উদ্র্ধরণ ? বল্ - "যুঝবো জান ভি পণ !" ঐ খুনের খুঁটিতে কল্যাণ-কেতু, লক্ষ্য ঐ তোরণ, আজ আল্লার নামে জান্ কোরবানে ঈদের পূত বোধন । ওরে হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ' শক্তির উদবোধন ! '''খুকি ও কাঠবেড়ালি''' কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও? গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি-নেবু? লাউ? বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও- ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক, খাও একা পাও যেথায় যেটুক! বাতাবি-নেবু সকলগুলো একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো! তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস পাটুস চাও? ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও! কাঠবেড়ালি! বাঁদরীমুখী! মারবো ছুঁড়ে কিল? দেখবি তবে? রাঙাদাকে ডাকবো? দেবে ঢিল! পেয়ারা দেবে? যা তুই ওঁচা! তাই তোর নাকটি বোঁচা! হুতমো-চোখী! গাপুস গুপুস একলাই খাও হাপুস হুপুস! পেটে তোমার পিলে হবে! কুড়ি-কুষ্টি মুখে! হেই ভগবান! একটা পোকা যাস পেটে ওর ঢুকে! ইস! খেয়ো না মস্তপানা ঐ সে পাকাটাও! আমিও খুবই পেয়ারা খাই যে! একটি আমায় দাও! কাঠবেড়ালি! তুমি আমার ছোড়দি’ হবে? বৌদি হবে? হুঁ! রাঙা দিদি? তবে একটা পেয়ারা দাও না! উঃ! এ রাম! তুমি ন্যাংটা পুঁটো? ফ্রকটা নেবে? জামা দুটো? আর খেয়ো না পেয়ার তবে, বাতাবি-নেবুও ছাড়তে হবে! দাঁত দেখিয়ে দিচ্ছ ছুট? অ’মা দেখে যাও!- কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!! '''লিচু-চোর''' বাবুদের তাল-পুকুরে হাবুদের ডাল-কুকুরে সে কি বাস্ করলে তাড়া, বলি থাম্ একটু দাঁড়া। পুকুরের ঐ কাছে না লিচুর এক গাছ আছে না হোথা না আস্তে গিয়ে য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে গাছে গ্যে যেই চড়েছি ছোট এক ডাল ধরেছি, ও বাবা, মড়াৎ করে পড়েছি সড়াৎ জোরে! পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই, সে ছিল গাছের আড়েই। ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার, ধুমাধুম গোটা দুচ্চার দিল খুব কিল ও ঘুসি একদম জোরসে ঠুসি! আমিও বাগিয়ে থাপড় দে হাওয়া চাগিয়ে কাপড় লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল, দেখি এক ভিটরে শেয়াল! আরে ধ্যাৎ শেয়াল কোথা? ভোলাটা দাঁড়িয়ে হোথা! দেখে যেই আঁতকে ওঠা কুকুরও জাড়লে ছোটা! আমি কই কম্ম কাবার কুকুরেই করবে সাবাড়! ‘বাবা গো মা গো’ বলে পাঁচিলের ফোঁকল গলে ঢুকি গ্যে বোসদের ঘরে, যেন প্রাণ আসলো ধড়ে! যাব ফের? কান মলি ভাই, চুরিতে আর যদি যাই! তবে মোর নামই মিছা! কুকুরের চামড়া খিঁচা সে কি ভাই যায় রে ভুলা- মালীর ঐ পিটনিগুলা! কি বলিস্? ফের হপ্তা! তওবা;নাক-খপ্তা। '''কুলি-মজুর''' দেখিনু সেদিন রেলে, কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে! চোখ ফেটে এল জল, এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল? যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে, বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে। বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল! কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্? রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে, রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে, বল ত এসব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা কার খুনে রাঙা?-ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি হঁটে আছে লিখা। তুমি জান না ক’, কিন- পথের প্রতি ধূলিকণা জানে, ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে! আসিতেছে শুভদিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ! হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়, পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়, তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি, তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি; তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান, তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান! তুমি শুয়ে র’বে তেতালার পরে আমরা রহিব নীচে, অথচ তোমারে দেবতা বলিব, সে ভরসা আজ মিছে! সিক্ত যাদের সারা দেহ-মন মাটির মমতা-রসে এই ধরণীর তরণীর হাল রবে তাহাদেরি বশে! তারি পদরজ অঞ্জলি করি’ মাথায় লইব তুলি’, সকলের সাথে পথে চলি’ যার পায়ে লাগিয়াছে ধূলি! আজ নিখিলের বেদনা -আর্ত পীড়িতের মাখি’ খুন, লালে লাল হ’য়ে উদিছে নবীন প্রভাতের নবারুণ! আজ হৃদয়ের জমা-ধরা যত কবাট ভাঙিয়া দাও, রং-করা ঐ চামড়ার যত আবরণ খুলে নাও! আকাশের আজ যত বায়ু আছে হইয়া জমাট নীল, মাতামাতি ক’রে ঢুকুক্ এ বুকে, খুলে দাও যত খিল! সকল আকাশ ভাঙিয়া পড়-ক আমাদের এই ঘরে, মোদের মাথায় চন্দ্র সূর্য তারারা পড়-ক ঝ’রে। সকল কালের সকল দেশের সকল মানুষ আসি’ এক মোহনায় দাঁড়াইয়া শোনো এক মিলনের বাঁশী। একজনে দিলে ব্যথা- সমান হইয়া বাজে সে বেদনা সকলের বুকে হেথা। একের অসম্মান নিখিল মানব-জাতির লজ্জা-সকলের অপমান! মহা-মানবের মহা-বেদনার আজি মহা-উত্থান, উর্ধ্বে হাসিছে ভগবান, নীচে কাঁপিতেছে শয়তান! '''আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে''' আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে– মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে। আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে - বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার – ভাঙা কল্লোলে। আসল হাসি, আসল কাঁদন মুক্তি এলো, আসল বাঁধন, মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে। ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে - আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে! আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস, ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস, গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির শূল আসে! ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে, আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে! আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন, মদন মারে খুন-মাখা তূণ পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে গো দিগ বালিকার পীতবাসে; আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের অঙ্গনে মোর চারপাশে আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে! আজ কপট কোপের তূণ ধরি, ঐ আসল যত সুন্দরী, কারুর পায়ে বুক ডলা খুন, কেউ বা আগুন, কেউ মানিনী চোখের জলে বুক ভাসে! তাদের প্রাণের ‘বুক-ফাটে-তাও-মুখ-ফোটে-না’ বাণীর বীণা মোর পাশে ঐ তাদের কথা শোনাই তাদের আমার চোখে জল আসে আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে! আজ আসল ঊষা, সন্ধ্যা, দুপুর, আসল নিকট, আসল সুদূর আসল বাধা-বন্ধ-হারা ছন্দ-মাতন পাগলা-গাজন-উচ্ছ্বাসে! ঐ আসল আশিন শিউলি শিথিল হাসল শিশির দুবঘাসে আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে! আজ জাগল সাগর, হাসল মরু কাঁপল ভূধর, কানন তরু বিশ্ব-ডুবান আসল তুফান, উছলে উজান ভৈরবীদের গান ভাসে, মোর ডাইনে শিশু সদ্যোজাত জরায়-মরা বামপাশে। মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন পাগলা সে। আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে! আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!! '''কবি-রাণী''' তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো আমি কবি। আমার এ রূপ-সে যে তোমায় ভালোবাসার ছবি।। আপন জেনে হাত বাড়ালো- আকাশ বাতাস প্রভাত-আলো, বিদায়-বেলার সন্ধ্যা-তারা পুবের অরুণ রবি,- তুমি ভালোবাস ব’লে ভালোবাসে সবি? আমার আমি লুকিয়েছিল তোমার ভালোবাসায়, তুমিই আমার মাঝে আসি’ অসিতে মোর বাজাও বাঁশি, আমার পূজার যা আয়োজন তোমার প্রাণের হবি। আমার বাণী জয়মাল্য, রাণি! তোমার সবি।। তুমি আমায় ভালোবাস তাই তো আমি কবি। আমার এ রূপ-সে যে তোমার ভালোবাসার ছবি।। '''পলাতকা''' কোন্ সুদূরের চেনা বাঁশীর ডাক শুনেছিস্ ওরে চখা? ওরে আমার পলাতকা! তোর প’ড়লো মনে কোন্ হারা-ঘর, স্বপন-পারের কোন্ অলকা? ওরে আমার পলাতকা! তোর জল ভ’রেছে চপল চোখে, বল্ কোন্ হারা-মা ডাকলো তোকে রে? ঐ গগন-সীমায় সাঁঝের ছায়ায় হাতছানি দেয় নিবিড় মায়ায়- উতল পাগল! চিনিস্ কি তুই চিনিস্ ওকে রে? যেন বুক-ভরা ও গভীর স্নেহে ডাক দিয়ে যায়, “আয়, ওরে আয় আয় আয়, কেবল আয় যে আমার দুষ্টু খোকা! ওরে আমার পলাতকা!’’ দখিন্ হাওয়ায় বনের কাঁপনে- দুলাল আমার! হাত-ইশারায় মা কি রে তোর ডাক দিয়েছে আজ? এতকদিনে চিন্লি কি রে পর ও আপনে! নিশিভোরেই তাই কি আমার নামলো ঘরে সাঁঝ! ধানের শীষে, শ্যামার শিসে- যাদুমণি! বল্ সে কিসে রে, তুই শিউরে চেয়ে ছিঁড়লি বাঁধন! চোখ-ভরা তোর উছলে কাঁদন রে! তোরে কে পিয়ালো সবুজ স্নেহের কাঁচা বিষে রে! যেন আচম্কা কোন্ শশক-শিশু চ’ম্কে ডাকে হায়, “ওরে আয় আয় আয় আয় রে খোকন আয়, বনে আয় ফিরে আয় বনের চখা! ওরে চপল পলাতকা’’।। '''শিক্ষাগুরুর মর্যাদা''' বাদশাহ আলমগীর- কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর। একদা প্রভাতে গিয়া দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে, শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি। শিক্ষক মৌলভী ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি। দিল্লীপতির পুত্রের করে লইয়াছে পানি চরণের পরে, স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে! ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে। হঠাৎ কি ভাবি উঠি কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি, শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার, ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল, বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল। যায় যাবে প্রাণ তাহে, প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে। তার পরদিন প্রাতে বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে। খাস কামরাতে যবে শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে, পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে? বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা, নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা” শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়, কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?” বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন, পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ। নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।” উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে- ”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির, সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।” '''অভিশাপ''' যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! ছবি আমার বুকে বেঁধে পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মরু কানন গিরি, সাগর আকাশ বাতাস চিরি’ যেদিন আমায় খুঁজবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! স্বপন ভেঙ্গে নিশুত রাতে, জাগবে হঠাৎ চমকে কাহার যেন চেনা ছোয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে- জাগবে হঠাৎ ছমকে, ভাববে বুঝি আমিই এসে বসনু বুকের কোলটি ঘেষে ধরতে গিয়ে দেখবে যখন শুন্য শয্যা মিথ্যা স্বপন বেদনাতে চোখ বুজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! গাইতে ব’সে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না, ব’লবে সবাই – “সেই যে পথিক, তার শেখানো গান না?” আসবে ভেঙে কান্না! প’ড়বে মনে আমার সোহাগ, কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ! প’ড়বে মনে অনেক ফাঁকি অশ্রু-হারা কঠিন আঁখি ঘন ঘন মুছবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ’রবে তোমার অঙ্গন, তুলতে সে-ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ - কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন! শিউলি ঢাকা মোর সমাধি প’ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি’! বুকের মালা ক’রবে জ্বালা চোখের জলে সেদিন বালা মুখের হাসি ঘুচবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! আসবে আবার আশিন-হাওয়া, শিশির-ছেঁচা রাত্রি, থাকবে সবাই – থাকবে না এই মরণ-পথের যাত্রী! আসবে শিশির-রাত্রি! থাকবে পাশে বন্ধু স্বজন, থাকবে রাতে বাহুর বাঁধন, বঁধুর বুকের পরশনে আমার পরশ আনবে মনে- বিষিয়ে ও-বুক উঠবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! আসবে আবার শীতের রাতি, আসবে না’ক আর সে- তোমার সুখে প’ড়ত বাধা থাকলে যে-জন পার্শ্বে, আসবে না’ক আর সে! প’ড়বে মনে, মোর বাহুতে মাথা থুয়ে যে-দিন শুতে, মুখ ফিরিয়ে থাকতে ঘৃণায়! সেই স্মৃতি তো ঐ বিছানায় কাঁটা হ’য়ে ফুটবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! আবার গাঙে আসবে জোয়ার, দুলবে তরী রঙ্গে, সেই তরীতে হয়ত কেহ থাকবে তোমার সঙ্গে- দুলবে তরী রঙ্গে, প’ড়বে মনে সে কোন্ রাতে এক তরীতে ছিলেম সাথে, এমনি গাঙ ছিল জোয়ার, নদীর দু’ধার এমনি আঁধার তেমনি তরী ছুটবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! তোমার সখার আসবে যেদিন এমনি কারা-বন্ধ, আমার মতন কেঁদে কেঁদে হয়ত হবে অন্ধ- সখার কারা-বন্ধ! বন্ধু তোমার হানবে হেলা ভাঙবে তোমার সুখের মেলা; দীর্ঘ বেলা কাটবে না আর, বইতে প্রাণের শান- এ ভার মরণ-সনে বুঝবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! ফুটবে আবার দোলন চাঁপা চৈতী-রাতের চাঁদনী, আকাশ-ছাওয়া তারায় তারায় বাজবে আমার কাঁদনী- চৈতী-রাতের চাঁদনী। ঋতুর পরে ফিরবে ঋতু, সেদিন-হে মোর সোহাগ-ভীতু! চাইবে কেঁদে নীল নভো গা’য়, আমার মতন চোখ ভ’রে চায় যে-তারা তা’য় খুঁজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে! আসবে ঝড়, নাচবে তুফান, টুটবে সকল বন্ধন, কাঁপবে কুটীর সেদিন ত্রাসে, জাগবে বুকে ক্রন্দন- টুটবে যবে বন্ধন! পড়বে মনে, নেই সে সাথে বাঁধবে বুকে দুঃখ-রাতে- আপনি গালে যাচবে চুমা, চাইবে আদর, মাগবে ছোঁওয়া, আপনি যেচে চুমবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে। আমার বুকের যে কাঁটা-ঘা তোমায় ব্যথা হানত্ সেই আঘাতই যাচবে আবার হয়ত হ’য়ে শ্রান– আসবে তখন পান’। হয়ত তখন আমার কোলে সোহাগ-লোভে প’ড়বে ঢ’লে, আপনি সেদিন সেধে কেঁদে চাপবে বুকে বাহু বেঁধে, চরণ চুমে পূজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে!=== কাজী নজরুল ইসলাম === *কবিতা *গল্প *প্রবন্ধ All content in the above text box is licensed under the Creative Commons Attribution-ShareAlike license Version 4 and was originally sourced from https://bn.wikisource.org/w/index.php?diff=prev&oldid=20112.
![]() ![]() This site is not affiliated with or endorsed in any way by the Wikimedia Foundation or any of its affiliates. In fact, we fucking despise them.
|