Revision 20225 of "ভূতের গল্প, গল্পের ভূত" on bnwikisource
ভূতের গল্প ভয়ঙ্করি
সন্ধান করি
কোন মিস্ত্রি বানাইয়াছে
একখান চাপা মাইরে দিছে ছাইড়া
জনম ভইরা ঘুড়িতেছে...
{Header
|title= [[মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন (গ্রন্থ)|মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন]]
|section =ভূতের গল্প, গল্পের ভূত
|previous =[[গোরস্থানের ভূত]]
|next =[[কাউকে যদি ভূতে ধরে]]
|notes =ISBN: 984-300-001701-9</br>প্রকাশক সাম্পান প্রকাশন, চট্টগ্রাম</br>খরচ বাদ দিয়ে এই সংস্করণের উদ্দৃত্ত টাকা যাবে সমাজ অধ্যয়ন কেন্দ্রের গ্রন্থাগার তহবিলে।</br> গ্রন্থস্বত্ব: লেখক এই গ্রন্থের স্বত্ব ত্যাগ করেছেন, যে কেউ পূর্বানুমতি ছাড়াইএই পুস্তকটি বা অংশবিশেষ মুদ্রণ, বিতরণ ও ফটোকপি করতে পারবেন।
|author =মুনির হাসান}}
<div style="padding-left:2em;font-size:1.3em">
ভূতের গল্প কমবেশি সবাই পড়ে। পছন্দও করে অনেকেই। বাংলা সাহিত্যের ভূতের গল্পের সঙ্গে অন্য ভাষার হরর সাহিত্যের বেশ পার্থক্য রয়েছে। রক্তশোষক ডাকুলা এই আলোচনার প্রসঙ্গ নয়। আমাদের আলোচনা আমাদের ভূতের গল্প নিয়ে-ঠিক তাও নয়, বরং বলা ভালো গল্পের ভূতকে নিয়ে।
ভূতের গল্প দু’ধরনের, আমার হিসেবে। প্রথমটি নেহায়েত নির্দোষ ভূতের গল্প। যেমন গুণী-বাঘার গল্প। সত্যজিৎ রায়ের কল্যাণে উপেন্দ্র কিশোরের মোটা ভূত, রোগা ভূত, মামদো ভূত ইত্যাদির সঙ্গে এদের রাজাও আমাদের বেশ পরিচিতি। এই ধরনের গল্পের ভূতদের বৈশিষ্ট্য খুব সাধারণ। এরা সাধারণত খুব বোকা কিসিমের এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের উপকারও করে থাকে গল্পে। শুধু বোকা নয়, এরা বেশ পুরোনো কালেরও। অন্তত আয়না আবিষ্কারের আগের! নতুবা নাপিতের আয়নায় নিজের ছবি দেখে প্রতারিত হতো না ভূত-বাবাজী। আর একশ হাত বাঁশে একমণ তেল লাগিয়ে সেটা বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টাও করতো না। স্বভাবত:ই এই সব শিশুতোষ ভূতদের ভয় পাবার তেমন কারণ নেই। নির্দোষ আনন্দ ও সময় কাটানো ছাড়া এই ধরনের গল্পের তেমন কোনো আকর্ষণও নেই পাঠকের কাছে। পাঠকের চিন্তাকে বিভ্রান্ত করতে এগুলো একবারেই অক্ষম।
ভূত-গল্পের দ্বিতীয় ও বিপজ্জনক ধারাটি আধুনিক ভুতের গল্পের। এগুলোর লেখকরা এদেরকে ভূতের গল্প বলে দাবি করেন না যদিও ব্লেড ভর্তি মাঠের ওপরে একজন দৌড়াচ্ছে এ জাতীয় প্রচ্ছদের কোণায় ভূতের উল্লেখ মাঝে মধ্যেই চোখে পড়ে।
এই সমস্ত গল্পের ভূতরা মারাত্মক। কারণ এইসব ভূতের গল্পের লেখকরা সুকৌশলে, পাঠকের মাথা ঘোরানোর জন্য এর সঙ্গে বিজ্ঞানের একটি সম্পর্ক তৈরি করেন। তার অ্যাপ্রোচটি হলো এরকম পুরো ব্যাপারটিরই একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। কোনো এক মা হয়তো তার ‘মৃত’ ছেলের ডাক শুনতে পান। দাড়িওয়ালা এক বিজ্ঞানী প্রবর এর কারণ হিসেবে জানালেন-- ছেলে বেঁচে আছে এবং ‘টেলিপ্যাথি’র মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে! এই ধরনের একটি বই পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। পুস্তকের একাধিক গল্পেই বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দাঁড় করালেও একেবারে শেষ গল্পটিতে লেখক তা করেননি। ঐ গল্পটি অনেকটা এরকম – এক যুবক প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখে সে একটি ব্লেডভর্তি মাঠের উপর দৌড়াচ্ছে, একটি মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য। সকালে ঘুম ভেঙে দেখে তার পায়ের তলা কাটা, ব্লেড দিয়ে কাটলে যেমনটি হয়। মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শমত জুতো পায়ে ঘুমোলে কিন্তু এই ঘটনা ঘটে না। ব্যাখ্যাটা সহজ ছিলো। তবে লেখক ঐ দিকে যাননি। বরং তিনি অনেকটা এভাবে শেষ করেছেনÑ পৃথিবীতে অনেক ঘটনাই ঘটে যা বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারে না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
শেষ পর্যন্ত লেখকের হাতে যুক্তির ওপর ভাবের বিজয় অর্জিত হয়। ঐ লেখক কেন এমনটি করেছেন তা আমার জানা নেই, তবে ঐ ধরনের রচনা আমাদের মতো অজ্ঞ ও মূর্খদের দেশে খুব জনপ্রিয় হয় তা নি:সন্দেহে। পাঠকরা রহস্যপ্রিয় ও অলৌকিক ঘটনাতে আনন্দ পান বেশি। এটিকে পুঁজি করে লেখক ফায়দা লুটতে আগ্রহী কিনা সেটা বিচারের ভারও আমার নয়।
আমার আপত্তি এ জন্য যে, এই ধরনের গল্পের ভূতরা শেষ পর্যন্ত পাঠকের চিন্তার জগতে ঢুকে পড়ে এবং মানুষের যুক্তিবাদী মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। বিশেষ করে পাঠক যখন দেখেন লেখক নিজেই বিজ্ঞানের বিশেষ শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন, তখন তিনি বিভ্রান্ত হোন বেশি। এভাবে দেশে যুক্তি বিরোধী, ভাববাদী, অদৃষ্টবাদী মনোভাবের প্রসার ঘটানোতে এইসব গল্পের ভূতরা ভালরকম অবদান রেখেই চলেছে।
তাছাড়া এই ভূত শুধু যে গল্পের বইয়ে সীমাবদ্ধ তা নয়, বরং ইতিমধ্যে মিনি পর্দায়ও এদের আবির্ভাব ঘটেছে। এ ধরনের একটি নাটক দেখার সৌভাগ্য (নাকি দুর্ভাগ্য?) আমাদের হয়েছে, বিটিভির কল্যাণে। প্রচারিত নাটকে বর্ষার শেষ সময়ে কোনো মেয়ের পক্ষে ঢাকা শহরে কদম ফুল সংগ্রহ করা সম্ভব কিনা এ জাতীয় প্রশ্ন উত্থাপন করে, দর্শককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে আকর্ষণীয় ভাবেই।
এইসব গল্পের ভূতকে কিভাবে গল্পেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় তার চিন্তা করা উচিত। আমাদের লেখক-নাট্যকারদের একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের দেশে ছাপা অক্ষর ও টিভির ভূমিকা ব্যাপক।
</div>
{{Footer|কাউকে যদি ভূতে ধরে}}
[[বিষয়শ্রেণী:জনপ্রিয় বিজ্ঞান]]All content in the above text box is licensed under the Creative Commons Attribution-ShareAlike license Version 4 and was originally sourced from https://bn.wikisource.org/w/index.php?oldid=20225.
![]() ![]() This site is not affiliated with or endorsed in any way by the Wikimedia Foundation or any of its affiliates. In fact, we fucking despise them.
|