Difference between revisions 12882 and 12883 on bnwiktionary

:== '''পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ''' ==
: === - সি, এম, ইকবাল ===
: 
:আজ  রোববার পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ২৩ বছরের নুবুয়াতী জীবনের অন্যতম অলৌকিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো এই মিরাজ। মদীনায় হিজরতের আগে মক্কায় অবস্থানকালে ২৬শে রজব দিবাগত রাতে তিনি আল্লাহ প্রদত্ত বাহনে চড়ে মিরাজ গমনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাববুল আলামীনের সান্নিধ্য লাভ করেন। প্রত্যক্ষ করেন সপ্তাকাশ, বেহেস্ত, দোজখসহ আল্লাহর সৃষ্টিরহস্য। সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন সপ্তাকাশে অবস্থানকারী তাঁর আগের নবী-রাসূলগণের সাথে। জীবরাঈল (আ:) কে দেখেন তাঁর নিজ অবয়বে। মিরাজ গমন করে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর কাছ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আদেশসহ ইসলামী সমাজ পরিচালনার বিধি-বিধান নিয়ে আসেন। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(contracted; show full)
:পবিত্র কুরআনের সূরা বনী ইসরাইলের প্রথম আয়াতে রাসূল (সাঃ)-এর মিরাজ গমনের বর্ণনা এসেছে এভাবে, “তিনি সেই পরম পবিত্র মহিমাময় সত্তা যিনি তার স্বীয় বান্দাহ (সাঃ)-কে এক রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত। যার পরিবেশকে করেছেন তিনি বরকতময়। যাতে তাঁকে নিজের কিছু কুদরত দেখান। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুরই শ্রোতা ও দ্রষ্টা”।
:
:
মিরাজের সঠিক তারিখ নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও হিজরতের কয়েক বছর আগে ঘটে এ ঘটনা। অধিকাংশ মত অনুযায়ী ২৭ রজব এশার নামাজের পরই ঘটে রাসূলের মিরাজের ঘটনা। ২৬ রজব রাসূল (সাঃ) উম্মে হানী বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ জিবরাল (আ:) এসে তাঁকে মিরাজের কথা জানান। জিবরাইল (আঃ) রাসূল (সাঃ)-কে মসজিদুল হারামে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর বুক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সিনা মোবারক ধৌত করে শক্তিশালী করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি বুরাক নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মুকাদ্দাসে এসে সকল নবীর ইমামতি করে দুই রাকাআত নামায আদায় করেন। তারপর তিনি বুরাকে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করতে থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম করতে থাকেন। সেখানে প্রতিটি আসমানে অবস্থানরত প্রধান ফেরেস্তাদের সাথে তাঁর দেখা হয়। পথিমধ্যে মূসা (আঃ) সহ অনেক নবী-রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ হয়। সপ্তম আসমানের পর বায়তুল মামুরে গিয়ে জিবরাইল (আঃ)-কে রেখে তিনি রফরফ নামক আরেকটি ঐশী বাহনে চড়েফেরেস্তাদের নিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। সিদরাতুল মুনতাহা নামক স্থানে পৌঁছে দেয়ার পর তাঁকে বহনকারী বোরাক থেকে যায়। জিবরাঈল (আ:)-এর উপরে যাওয়ার ব্যাপারে তার অপারগতা প্রকাশ করেন। জিবরাইল (আঃ)-কে রেখে তিনি রফরফ নামক আরেকটি ঐশী বাহন রাসূল (সাঃ) কে উপরের দিকে আরশে মোয়াল্লায় পৌঁছে দেয়। রাসূল (সাঃ) বিশ্বের স্রষ্টা মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন। বর্ণনায় আছে, রাসূল (সাঃ) আল্লাহর এতটা কাছাকাছি গিয়েছিলেন যে দুজনের মধ্যখানে ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। সেখানে আল্লাহর সাথে রাসূল (সাঃ)-এর কথোপকথন হয়। এক বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায়, আল্লাহ রাববুল আলামীন রাসূল (সাঃ)-এর কাছে জানতে চান তিনি আল্লাহর জন্য কি উপহার এনেছেন। তখন রাসূল (সাঃ) তাশাহহুদ পাঠ করেন এবং বলেন, এটি আপনার জন্য উপহার হিসেবে এনেছি। আল্লাহ রাববুল আলামীন মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিধি-বিধান রাসূলকে  উপহার দেন। মিরাজ থেকে আসার পর এ ঘটনার বর্ণনা দেয়া হলে বিনা প্রশ্নে তা বিশ্বাস করেন হযরত আবু বকর (রাঃ)।
:
:রাসূল সা:-এর মিরাজ গমনের বিষসশরীরে না আত্মিক হয়েছিল এ নিয়ে বিত্র কুরআন ও হাদীসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া মুফাসসিরগণও এ সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য-প্রমাণাদি পেশ করেছেন।
:পবিত্র মিরাজের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান বিশ্বের মজলুম মুসলমানদেরকে জালেমদের নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তির জন্য কাজ করতে হবেজ্ঞানী ও আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতান্তর আছে। অধিকাংশ আলেম ও ইসলামি গবেষকদের মতে, মিরাজ ছিল একটি বাস্তব ঘটনা। আল্লাহতায়ালা বিশেষ ব্যবস্থায় এ কাজটি রাসূল সা:কে করিয়েছেন সশরীরেই। যদি আত্মিক বা স্বপ্নেই এ ঘটনা ঘটত তাহলে এ নিয়ে এত আলোচনা বা একে স্বীকার-অস্বীকারের প্রশ্ন আসত না। কারণ তখন এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর কাফের-মুশরিকরা ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেছিল। স্বপ্নে কেউ আকাশে ভাসার মতো ঘটনার উপলব্ধি যে কারো হতে পারে সেটা নিয়ে হই চই হয় না। তা ছাড়া পবিত্র কুরআনের সূরা বনি ইসরাইল ও সূরা নজমে রাসূল সা:-এর মিরাজের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে।
:
:রাতটি মুসলমানদের কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ। মুসলানরা এ রাতে নফল নামাজ, রোজা, জিকিরসহ বিশেষ ইবাদত করে থাকেন।
:রাসূলের মিরাজ গমনের বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া মুফাসসিরগণও এ সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য-প্রমাণাদি পেশ করেছেন:সম্পাদনা ঃ
:সি, এম, ইকবাল
:মগবাজার, ঢাকা।