Difference between revisions 2838352 and 2840961 on bnwiki{{তথ্যছক ব্যক্তি | name = শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া [[File:শাহ মোহাম্মদ ইস্কন্দর মিয়া.jpg|thumb]] | birth_date = {{Birth date|1936|1|15|df=yes}} [[জগন্নাথপুর উপজেলা]] | birth_place = [[সুনামগঞ্জ জেলা]], [[সিলেট বিভাগ]], [[বাংলাদেশ]] | death_place = ১৪ আগষ্ট ২০১৭ [[সিলেট]], [[বাংলাদেশ]] | occupation = ''মরমী [[সাধক]]'' [[গীতিকার]] ''প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক | nationality = বাংলাদেশি [[Image:Flag of Bangladesh.svg|50px|right|link=http://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh]] | ethnicity = বাঙালি মোসলিম | religion = মোসলিম }} '''শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া''' [[জন্ম]] ১৫ই জানুয়ারি [[১৯৩৬]] মৃত্যু ১৪ই আগষ্ট [[২০১৭]] বাংলাদেশের একজন মরমী সাধক ও বাউল গানের কবি এবং প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক । <ref name="moromi manosh" >''সিলেটের মরমী মানস'' [[সৈয়দ মোস্তফা কামাল]], প্রকাশনায়- মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ, প্রকাশ কাল ২০০৯</ref> তাঁর লিখা গানের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি । শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া বিরচিত আধ্যাত্মিক গান বাংলাদেশের মরমী ভুবনকে সমৃদ্ধ করেছে। গবেষকদের মতে শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়ার রচিত গান ভাববাদী মানুষকে আধ্যাতিক জগতের সন্ধান দিতে সহায়ক <ref> লন্ডন বিডি নিউজ '''প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরমী কবি শাহ ইস্কন্দর মিয়া আর নেই'''[[http://londonbdnews24.com/nodes/nodes/view/type:news/slug:motiar-news-14-aug-2017/]]</ref> <ref name="বাসিয়া" > না-ফেরার দেশে চলে গেলেন গীতিকার পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া, বাসিয়া নিউজ [[http://bashia24.com/2017/08/%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%80/]]</ref><ref>'''দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর''' শোক সংবাদ-শাহ ইস্কন্দর মিয়া' [[http://sunamganjerkhobor.com/শোক-সংবাদ-শাহ-ইস্কন্দর-মি]]</ref><ref name="স্মারক" >'''শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া স্মারক গ্রন্থ''' সম্পাদনায়, মোহাম্মদ নোওয়াব আলী ও কামরুন নাহার চৌধুরী শেফালী, প্রকাশনায়, বাসিয়া প্রকাশনী, সিলেট, প্রকাশকাল নভেম্বর ২০১৭''।</ref> ==পরিচিতি== [[সিলেট বিভাগ|সিলেট বিভাগের]] [[সুনামগঞ্জ জেলা|সুনামগঞ্জ জেলার]] [[জগন্নাথপুর উপজেলা|জগন্নাথপুর উপজেলার]] তেরাউতিয়া গ্রামের সুনামখ্যাত মোকামবাড়িতে ১৯৩৬ সালে জন্ম হয় মরমী কবি শাহ মোহাম্মদ ইস্কন্দর মিয়ার । পিতা আব্দুল হামিদ (হামিদ উল্লা) মাতা সৈয়দা মিরজান বিবির চার মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে শাহ মোহাম্মদ ইস্কন্দর মিয়া পঞ্চম সন্তান । শাহ মোহাম্মদ ইস্কন্দর মিয়ার লেখা-পড়ার হাতেখড়ি গ্রামের মক্তব । পরবর্তিতে ভর্তি হন সিলেটের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ [[ ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয় পাইল গাও|পাইল গাও ব্রজনাথউচ্চ বিদ্যালয়ে]] । ছোট বেলা থেকেই গান বাজনার প্রতি আবেগী ছিলেন । গানের উস্তাদ ছিলেন বৃহত্তর ময়মন সিংহের প্রখ্যাত সাধক জয়নাল আবেদিন পাঠান ।<ref>সিলেট বিভাগের ইতিবৃত্ত: মোহাম্মদ মমিনুল হক, গ্রন্থ প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০০১।</ref> <ref> সিলেটের আঞ্চলিক গান, মোহাম্মদ খালেদ মিয়া, প্রাকাশক - সাইদুর রহমান, প্রাকাশ কাল মে - ২০০৫ খ্রিঃ।</ref> ==পরিবারিক জীবন== শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়ার সংসার জীবন শুরুর হয়েছিল ১৯৬২ সালে নিজ গ্রামের এক মোসলিম পরিবারের মেয়ে ফুলমালা ওরফে ফুল বিবির সাথে পরিণয় বন্ধনে আবদ্ধের মাধ্যম । অতপর ১৯৬৩ সালে জীবন জীবিকা অনুসন্ধানে প্রবাসী হন বৃট্রেনে । নাড়ির টানে প্রতি বছরে কখন কখন দেড়\দুই বছরে দেশে ফেরতেন পরিবার পরিজনের মাঝে । প্রায় সময় দেড়\দুই বছর পরিবার পরিজনের মাঝে কাটিয়ে আবার জীবিকার তাগিদে হতেন প্রবাসী । ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পাঁচ সন্তানের জনক । <ref>http://londonbdnews24.com/nodes/nodes/view/type:news/slug:motiar-news-14-aug-2017/</ref> <ref name="moromi manosh" /><ref name="স্মারক" /> [[File:'শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া স্মারক গ্রন্থ.png|155px|thumb|শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া স্মারক গ্রন্থ]] ==মুক্তিযুদ্ধে অবদান== মরমী কবি পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন কবি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ওল্ডহ্যামে প্রবাসী বাঙ্গালীদের সংগঠিত করা বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত আদায়ে কাজ করেন। তখন লন্ডনে অবস্থানরত বিচারপতি আবুসাঈদ চৌধুরীর সাথে কাজ করেন। সুদুর ওল্ডহ্যাম থেকে লন্ডনে এসে প্রতিটি মিছল মিটিং-এ অংশ নেওয়া সহ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি সভা সমিতিতে তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। <ref name="moromi manosh" /> তিনি ছিলেন বঙ্গুবন্ধুর একজন আদর্শ সৈনিক । বঙ্গুবন্ধুকে হৃদয় থেকে ভালবাসতেন । সেই ভালবাসার ছাপ রেখে গেছেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসংখ গান ও কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে । {{col-begin}} {{col-break}} বাংলাদেশে স্বাধীন করলেন<br />মুজিবুর রহমান।<br />দেশপ্রেমিক মানুষ সবে<br />উড়াও, জয় বাংলার নিশান।<br /> {{col-break}} <br /> গাইবো বাংলাদেশের গান<br />বাংলাদেশের অপর নাম<br />শেখ মুজিবুর রহমান।<br /> {{col-break}} <br /> তোমরা বাও বাও-রে<br />বাংলাদেশে শেখ মুজিবের নাও <br />রক্তে রাঙা সবুজ নিশান <br />আকাশে উরাও”। {{col-end}} পীর শাহ মুহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া জন্ম্ভূমি বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের উপর লিখেছেন অসংখ গান; তার গানে এভাবে ফোটেছে দেশ ও যুদ্ধের চিত্র;- <br />{{col-begin}} {{col-break}} মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক,<br />উসমানী মহামানী<br />নয় মাসে বাংলাদেশ স্বাধীন<br />পরাজয় পাকিস্তানি।। {{col-break}} <br /> <br />{{col-begin}} {{col-break}} বুদ্ধিজীবী মারল সকল<br /> উনিশ'শ একাত্তরে<br /> কি লেখি দুঃখের কাহিনী <br />লেখতে কলম নাহি ধরে”। {{col-end}} {{col-break}} <br /> আমার বাংলাদেশ সুন্দর<br /> ধানের দেশ গানের দেশ<br /> আছে নদী হাওর <br /> পল্লী বাংলার বাড়ি বাড়ি <br />শিতল সরোবর ।।<ref name="স্মারক" /> {{col-end}} ==সাধনা== [[File:শাহ মোহাম্মদ ইস্কান্দর মিয়া'র.png|195px|thumb|শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া'র বাড়িতে অনুষ্টিত বাৎসরিক উরোস]]ছোট বেলা থেকেই গান বাজনা লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন সময় ময়মনসিংহের সাধক জয়নাল আবেদিন পাঠানের কাছে গানের গানের গুঢ়-তত্ত্ব, রাগ-রাগিনী ও বাজনার উপর তালিম নেন। যৌবন কালে গান-বাজনার পাশাপাশি মঞ্চ নাটক এবং যাত্রাপালায় অভিনয়ও করেছেন। জীবনে অনেক বাউল গান গেয়েছেন। তিনি ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রবাসি হন, বৃটেনে অভিবাসী হওয়ার পরও তাঁর উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়েনি। যখন তিনি বিলেতে আসেন তখন ভরা যৌবন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সঙ্গীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। বন্ধু-বান্ধব মিলে চিত্ত বিনোদনের জন্য গানের আসরে মিলিত হন নিয়মিত। এশকের আশিক হয়ে প্রাণের কথা গানে লিখতে শুরু করেন। '''সবুজ আসর নামে''' একটি গানের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন বৃটেনের ওল্ডহ্যাম শহরে। পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়ার তের খন্ডে রচিত গান '''ইসকন্দর গীতি''' নামে প্রকাশিত । এতে গানের সংখ্যা দুই হাজারেরও অধিক ।<ref name="স্মারক" /> বলা হয়; ভাবুক হৃদয় মাসুকের সন্ধানে খুজে অনন্ত উদ্যানে যাওয়ার পথ । আর সে পথ অনুসন্ধানে প্রতিষ্টিত হয়েছে সুফীবাদ । এর পরিক্রমায় সাধকরা বিভিন্ন ভাবে অনেক বিষয় বস্তুরকে রূপক অর্থে ব্যবহারে রচনা করেন মরমী সঙ্গীত । এ সঙ্গীত ধারা ভাবুকেরা স্রষ্টা ফেতে করেন আরাধনা । আবার কখনও স্রষ্টা না পাওয়ায় গানে ব্যক্ত করেন নিজের অসফলতার কথা । যেমন সাধক ইসকন্দর মিয়া গানে বলেছেনঃ {{col-begin}} {{col-break}} বন্ধুর বাড়ি যাইতে নারি <br /> নদী ভরা পানি <br /> কেমন করে যাব আমি <br /> সাঁতার নাহি জানি ।। <br /> বন্ধে আমার লয়না খবর <br /> আছি কি মরেছি <br /> দিয়া আমায় নির্বাসনে <br /> আসবো কইল যাচি <br /> কি সুখে কাল কাটাইতেছি <br /> আমি অভাগীনি ।। <br /> <br /> আসার আশে রইলাম বসে<br /> জীবন হইছে সারা <br /> মাটির কলস ভেঙ্গে যেমন <br /> হয় আদর ছাড়া ।<br /> তার প্রেমেতে জীতে মরা <br /> কাঁন্দি দিন রজনী ।।<br /> আসলে বন্ধু কইতাম কথা <br /> আছে যত দুখ <br /> বসন খুলে দেখাইতাম <br /> আমার পুড়া বুক <br /> ইসকন্দর কয় দেখিয়া মুখ <br /> যাইত পেরেশানী।। {{col-break}} <br /> <br />{{col-begin}} {{col-break}} কান্দিয়া না পাইলাম তোমার মন <br /> প্রাণের বন্ধু-রে <br /> কান্দিয়া না পাইলাম তোমার মন ।।<br /> বন্ধুরে - করে আমায় পাগলিনী <br /> ভুলে রইলে কেন তুমি <br /> দিন রজনী ঝরে দুই নয়ন- বন্ধু-রে<br /> করিয়া তোমারই আশা <br /> পাব বলে ভালবাসা <br /> কর্মনাশায় পাইলা না চরণ - <br /> প্রাণের বন্ধু-রে --- ।। <br /> বন্ধু-রে শুকাইল কাম নদীর জল<br /> অংগ কাঁপে থরথর <br /> নেওনা খবর সামনে মরণ বন্ধু-রে ।<br /> যমদূত আসিয়া খাড়া <br /> এখনই পড়িব ধরা <br /> প্রেমের মরা দেখে যাও এখন -<br /> প্রাণের বন্ধু-রে ---- ।।<br /> বন্ধু-রে আমারও মরণ হইলে <br /> কে ডাকিবে বন্ধু বলে <br /> একা যখন রইবে এই ভূবন ।<br /> ইসকন্দরে কয় কাতরে<br /> নিজ গুণে কৃপা করে <br /> বারণ করো দুরে যাউক শমন -<br /> প্রাণের বন্ধু-রে --- - । {{col-end}} {{col-break}} <br /> তোমারও লাগিয়া আমি <br />[[File:শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া books.jpg|185px|thumb|শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া books]] ভাবতে ভাবতে পেরাশান ।<br /> আমায় একবার দেখা দিয়া <br /> শিতল করো তাপিত প্রাণ ।।<br /> মায়াতে দয়া মিশাইয়া <br /> ওগো বন্ধু বিনোদিয়া <br /> প্রাণে প্রাণে প্রাণ মিলাইয়া <br /> প্রেম তরংগে গাও হে গান ।। <br /> তুমিত দয়াল বন্ধু <br /> দাও দয়া এক বিন্দু <br /> তুমি হও ভব সিন্ধু <br /> পাপী তাপি করো ত্রাণ ।।<br /> ইসকন্দর কাংগালের বেশে <br /> পথ চাইয়া আছি বসে <br /> উদয় হও মোয়্র হৃদ আকাশে <br /> দেখব ভরে দুই নয়ান ।।<br /> {{col-end}}<ref name="moromi manosh" /> শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া একাধারে গায়ক ও মরমি গীতিকার তার লেখা গানের সংখ্যা ২ হাজারেরো বেশী ।<ref name="স্মারক" /> ==সম্মাননা পুরস্কার== একজন মরমী কবি হিসেবে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য মহাকবি [[সৈয়দ সুলতান]] সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ সুলতাশী হাবেলী হবিগঞ্জ তাঁকে ২০০১ সালে পুরস্কার প্রদান করে। ২০০৬ সালে সিলেট একাডেমি ইউকে অ্যান্ড ইউরোপ কবিকে সম্মাননা প্রদান করেছে । <ref name="স্মারক" /> ==গুণিজনদের অভিমত== অধ্যাপক মুহাম্মদ [[আসাদ্দর আলী]], বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত, সিলেটের লোকজ ঐতিহ্যের আজীবন অনুসন্ধানী গবেষক ।<br />[[File:Ashaddor ali.jpg|50px| thumb|আসাদ্দর আলী]] হযরত শাহজালাল রাহঃ ও তিনশ ষাট আউলিয়ার পুণ্য পদস্পর্শধন্য সিলেট । সূফী সাধনা ও মরমী সাহিত্যে সিলেট বিভাগের পীর ফকির সূফী সাধক বাউল বৈরাগীদের অবদান বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য । হাজারও মরমী কবিদের আবির্ভাব ও তিরোভাবের অব্যাহত ধারায় সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার তেরাউতিয়া গ্রাম নিবাসী পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া একজন বাউল কবি হিসেবে দেশ বিদেশে সুপরিচিত । সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানকার মানুষকে ভাবুক করে তুলেছে স্বাভাবিক নিয়মে । একথা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত এবং তর্কাতীতভাবে স্বীকৃত যে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার পথ পরিক্রমার অব্যাহত ধারায় সিলেটের কীর্তিমান মরমী কবিগণ তাদের কালজয়ী মনন ও মেধার অবিনাশী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাজারো ভাবে ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন । সৈয়দ শাহ নূর, সূফী শিতালং, হাছন রাজা, রাধারমন, শেখ ভানু, দীনহীন, দীন ভবানন্দ, আরকুম শাহ, আছদ আলী পীর প্রমূখ মরমী কবিগণ আজ আমাদের মাঝে নেই । আছে তাদের হৃদয়ের ভাষা দিয়ে রচিত সঙ্গীত লহরী । বাউল কবি পীর ইসকন্দর মিয়াও একদিন এই দুনিয়ায় থাকবেন না । থাকবে তার গানগুলো । এই কবির এযাবৎ প্রকাশিত 'ইসকন্দর গীতি' পাঁচ খণ্ড ও একত্রে প্রকাশিত আরো তিন খণ্ডের গানগুলো আমি দেখে মুগ্ধ হয়েছি । জানা গেছে তার আরো কয়েক খণ্ড ইসকন্দর গীতি প্রকাশের অপেক্ষায় । সব মিলিয়ে তার রচিত গানের সংখা দেড় হাজারেরও বেশী হবে । । কবি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করার কারণে দেশের মাটিতে যতটা পরিচিতি হওয়ার কথাছিল তা হয়নি । পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া আমার জন্ম উপজেলা জগন্নাথপুরের তেরাউতিয়া গ্রামের লোক । আমার জন্মগ্রামও একই উপজেলার লদরপুর গ্রামে । পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া তার পূর্বসূরী মরমী মহাজনদের একজন সফল উত্তরসূরী । তার রচিত গানগুলো একদিন একদিন মূল্যায়ন হবে অবশ্যই । আমি ইসকন্দর গীতির বহুল প্রচার কামনা করি । (সুত্র; '''ইসকন্দর গীতি''') <ref name="স্মারক" /> '''মতিয়ার রাহমান চৌধুরী''' সিলেটি নাগরী লিপির গবেষক ও দেশ বিদেশে খ্যাতিয়মান সাংবাদিক<br /> [[File:Matiar Rahman.jpg|50px| thumb|মতিয়ার রাহমান চৌধুরী]] পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়ার কথা লিখতে গিয়ে লিখেছেন; তিনি একাধারে একজন সাধক, গায়ক, মরমী কবি ও প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। শাহ ইসকন্দর মিয়া খুব ভালবাসতেন বঙ্গবন্ধুকে । আর এই শোকের মাস আগষ্টেই তাঁকে চলে যেতে হল না ফেরার দেশে । বহুগুণে গুণাম্বিত এই মানুষটি জীবনের বেশীর ভাগ সময় বিলেতে কাটিয়েও ভুলেননি নিজের সংস্কৃতি । তাঁর লিখা '''ইসকন্দর গীতি''' সর্বমোট তের খণ্ড বইয়ে তিনি লিখেছেন দেড় হাজারেরও বেশি গান । পীর শাহ ইসকন্দর মিয়ার রচিত গানে একজন ভাবুকের হৃদয় নিঙারানো ভাব ও ভাষা বিদ্যমান --- । <ref name="স্মারক" /> '''গবেষক, অধ্যাপক আতাউর রহমান''' সাবেক প্রিন্সিপাল [[সিলেট]] [[মদনমোহন কলেজ]] ও [[বিশ্ববিদ্যালয়]]<br /> পীর শাহ ইসকন্দর মিয়ার গানের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁকে একজন বস্তুবাদী কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । পীর শাহ ইসকন্দর মিয়ার সেই বিখ্যাত গানটি হলঃ<br /> আমার মনের দুঃখ কাহারে সুধাই<br /> বন্ধু, তর প্রেমের আগুনে, <br /> পুড়ে পুড়ে হইয়া গেলাম ছাই ।<br /> তুমি আমায় ভিন্ন বেসে <br /> ভুইলা রইলায় পরবাসে-রে ।<br /> অঙ্গ কালা প্রেমের বিষে <br /> কি দিয়া জ্বালা নিভাই ।<br /> যেই অবধি তোমায় ছাড়া <br /> দুই নয়নে বহে ধারা-রে ।<br /> ইসকন্দর হইলাম সারা <br /> কোথায় গেলে তোমায় পাই । (সুত্র; '''ইসকন্দর গীতি''') <ref name="স্মারক" />[[File:Syed Mustafa Kamal.jpg|50px|thumb|Syed Mustafa Kamal]] [[সৈয়দ মোস্তফা কামাল]] ইতিহাস সন্ধানি মরমী গবেষক<br /> শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন 'পীর ইসকন্দর মিয়ার গানে ঈশারা করে তিনি একজন এশকের আশিক, ভাবের ভাবুক ।' আমার মতে ইসকন্দর মিয়া একজন ভাবুক কবি, সূফি সাধক ও দেশপ্রেমিক । তাঁর প্রতিটি গানে উঠে এসেছে ইহকাল ও পরকালের ভাবনা, দেশপ্রেম এবং সমসাময়িক বিষয়াদি । আর এ কারণেই তিনি চির কাল বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাঝে । <ref name="moromi manosh" /><ref name="স্মারক" /> '''ডঃ মমিনুল হক''' <br /> বৃটেনের যে কয়কজন আধ্যাতিক সাধক ও মরমী কবি রয়েছেন শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া তাদের মধ্যে অন্যতম । তিনি একাধারে কবি, গায়ক, সাধক ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন প্রবাসি সংগঠক । আমরা যতটুকু জানি, সম্ভবত বিলেতে তিনিই প্রথম সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে গান রচনা করেন এবং অন্যদের গান রচনাতে প্রত্যক্ষ প্রেরণা দিয়ে গান রচনায় অনুপ্রাণিত করেছেন । তাঁর গানগুলো আজীবন বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমরা বিশ্বাষ করি । (সুত্র; '''ইসকন্দর গীতি''') '''অধ্যাপক আবু খালেদ চৌধুরী'''; আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে পীর ইসকন্দর মিয়ার অবাধ বিচরণ রয়েছে । সূফিবাদের মরমী তত্ত্বে তাঁর চেতনা শাণিত । '''ইসকন্দর গীতি''' বাংলার বাউল কবিদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় । আউল বাউলের দেশ আমাদের বাংলাদেশ । সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা এর ব্যতিক্রম নয় । জগন্নাথপুরের তেরাউতিয়া মোকামবাড়িতে জন্ম নেয়া শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া একজন স্বভাব কবি । সিলেটের মরমী সাহিত্যে 'ইসকন্দর গীতি' স্মরণিয় হয়ে থাবকে । <ref name="স্মারক" /> [[বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান]] '''সিলেট সিটি'র সাবেক মেয়র''' <br /> প্রবাসী বাউল কবি পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া শুধুমাত্র একজন কবিই নন; তিনি একজন একজন মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকও । তিনি ও তাঁর সহযুদ্ধারা প্রবাসে বাংলাদেশের স্বপক্ষে কাজ করেছেন । তাদের অবদানগুলো জাতি অনাগতকাল ধরে স্মরণ রাখবে <ref name="স্মারক" /> '''মোহাম্মদ হান্নান মিয়া''', লিখক ও সাংবাদিক ইউকে, ভার প্রাপ্ত সভাপতি ওল্ডহ্যাম আওয়ামিলীগ ইউকে।<br /> মরমী কবি পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়া ছিলেন ভাবুক সচেতন। তাঁর রচনায় রয়েছে ভাব, বিরহ ও আল্লাহর সাথে মিলনের আশা । সত্য হল, বাস্তবিক পক্ষে '''ইসকন্দর গীতি''' গানগুলো আধ্যাত্মিকতায় সমুজ্জল মননশীল ও অনুভূতিশীল । প্রায় তের খণ্ড বই আমি পড়েছি, আমার অনুভূতি এই গানে আত্মার খুড়াক আছে । ভাবুক হৃদয় মাত্রই এগুলো হৃদয়াঙ্গম করতে সক্ষম। পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়ার সঙ্গীত প্রেম বিরহ ছাড়া সৃষ্টি তত্ব, ভাব তত্ব, ধর্ম দর্শন, মানব কল্যাণ সহ বিভিন্ন ভাব ধারার রচিত । আখেরাত ও মানব জীবনের ভেদ রহস্য উদঘাটন হচ্ছে তাঁর গানের মূল বিষয়বস্ত। তাঁর গান বা ছন্দের ভাব ও বিষয়গুলো এমন যে; নিমিষে ভাবুক হৃদয়ের দাগ কাটবে । <ref name="স্মারক" /> '''মোহাম্মদ আবু খালেদ''', অধ্যক্ষ ষড়পল্লী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, বাংলাদেশ ।<br /> কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায় মরমী কবি পীর শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়ার জীবন কৃতিগুলো অস্বীকার করার উপায় আমাদের নেই । আমাদের মরমী সাহিত্যে তাঁর অবদান সত্যই প্রসংসার দাবি রাখে । আমার জানামতে সিলেট বিভাগের গীতি কবিদের মধ্যে রচনার সংখ্যানুপাতে তিনিই শীর্ষ । সিলেটের প্রখ্যাত গবেষক মরহুম সৈয়দ মোস্তফা কামাল রচিত গ্রন্থে এর উল্লেখ রয়েছে । কবি তাঁর আত্মাকে সিচে সিচে যে রচনা আমাদের দিয়েছেন, তা দেখে তাঁর প্রতিভার অনুমান হয় । তিনি সত্যিকারে একজন প্রতিভাভাবন ব্যক্তিত্ব । <ref name="স্মারক" /><br /> '''মোহাম্মদ নওয়াব আলী''' গীতিকার বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন, সম্পাদক মাসিক বাসিয়া ও বাসিয়া ২৪ ডট কম।<br /> বাউল কবি পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া গান লিখতেন প্রাণের টানে। শৈশব থেকেই গান লিখে আসছেন। প্রায় দুই সহস্রাধিক গানের জনক তিনি। তাঁর গান নিয়ে ইতিপূর্বে তেরো খণ্ডে ইসকন্দরগীতি প্রকাশিত হয়েছে। চতুর্দশ খণ্ডটি অপ্রকাশিত ছিল। পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়ার কঠোর সাধনা ও নিরন্তর ভাবের রাজ্যে ডুবে থাকার ফসল এই গানগুলো আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। আমাদের লোকসঙ্গীতের ভাণ্ডার তাঁর গানে আরও সমৃদ্ধ হবে। পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া নিজের গানের মাধ্যমেই বেঁচে থাকবেন চিরকাল চিরদিন। তার ভাষায়-<br /> প্রাণের কথা গানে লিখে দরবারে আরজ জানাই<br /> মৌলা ছাড়া ইসকন্দরের ফরিয়াদের জায়গা নাই । <ref name="স্মারক" /> <ref name="বাসিয়া" /> ==শাহ মোহাম্মদ ইসকন্দর মিয়ার গান সমুহ== পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়ার তের খণ্ডে রচিত গানের সংখ্যা দুই হাজারেরও অধিক। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে '''ইসকন্দর গীতি''' প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১০১টি গান নিয়ে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১১৪টি গান নিয়ে। পরে সংশোধিত আকারে ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে ১০১টি গান নিয়ে ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয়বার পুনঃমুদ্রণ করা হয়। ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। দ্বিতীয় খণ্ডে গানের সংখা ১১৪টি ও তৃতীয় খণ্ডে গানের সংখ্যা ১১৫টি। ইসকন্দর গীতি চতুর্থ ও পঞ্চম খণ্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের মে মাসে। চতুর্থ খণ্ডে গানের সংখ্যা ১৩৩টি আর পঞ্চম খণ্ডে গানের সংখ্যা ১৪৫টি।<br /> [[ইসকন্দর গীতি প্রথম খণ্ড]]<br /> [[ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয় খণ্ড]]<br /> [[ইসকন্দর গীতি তৃতীয় খণ্ড]]<br /> ==তথ্য সুত্র== <references/> [[বিষয়শ্রেণী:সিলেট জেলার ব্যক্তি]] [[বিষয়শ্রেণী:কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:সুফি]] [[বিষয়শ্রেণী:সিলেট গীতিকা]] [[বিষয়শ্রেণী:সাধক]] [[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি গীতিকার]] [[বিষয়শ্রেণী:বাঙালি সুরকার]] [[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের লোকসংগীত]] [[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী সাহিত্যিক]] [[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশী কবি]] [[বিষয়শ্রেণী:বাউল গান]]⏎ [[বিষয়শ্রেণী:সিলেট জেলার লোকসাহিত্য]] All content in the above text box is licensed under the Creative Commons Attribution-ShareAlike license Version 4 and was originally sourced from https://bn.wikipedia.org/w/index.php?diff=prev&oldid=2840961.
![]() ![]() This site is not affiliated with or endorsed in any way by the Wikimedia Foundation or any of its affiliates. In fact, we fucking despise them.
|